একজন লেখকের চোখে রণ-পা
রণ-পা অর্থাৎ দুটো বাঁশের উপরে পা রেখে ভারসাম্য করে দাঁড়িয়ে থাকা বা এগিয়ে চলাকেই
আমরা ঐতিহাসিকভাবে রণ-পা হিসাবে চিনি। একসময় যুদ্ধে এই পায়ের ব্যবহার হোত শত্রূকে ঘায়েল
করার উদ্দেশ্যে। তখন থেকেই এর নাম হয় রণ-পা। সময়ের সাথে সাথে রণ-পা ক্রমে বাজিকরের
খেলায় রূপান্তরিত হল। আর সাম্প্রতিক সময়ে এই খেলাও বিলুপ্তির পথে। একবিংশ শতকের ঢাকায়
ঘোড়ার গাড়ীর দেখা মিললেও ধানমন্ডি লেকে রণ-পা আর তার বাজিকরের দেখা পাওয়া অনেকের জন্যই
বেশ চমকের ছিল, লেখকের কাছেও তার আকর্ষণ ছিল অনেক। এক বিকেলে, রঙীন আর আকর্ষনীয় সাজে
সজ্জিত একজন বয়স্ক মানুষ বেশ করে সিরামিকের ইটের রাস্তা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন আর লোকজন
তাকে দেখছে। এই দৃশ্যটা লেখকের চোখে এক অদ্ভত আকর্ষণ তৈরি করেছিল। লেখক বলেন, তিনি
কথা বলছেন উচ্চস্বরে, হাত-পা নেড়ে। লেখক বলেছেন, বোকাবাক্স প্রতিনিয়ত যেভাবে ফিয়ার
সেক্টর, এমেজিং রেইস, ম্যাজিকস সিক্রেট আরো নানান রিয়েলিটি শো দিয়ে বুঁদ করে রেখেছে
তাতে আমার সন্দেহে হচ্ছিল রণ-পার বাজিকর এই চলমান দর্শকদের কীভাবে মুগ্ধ করবেন বা আদৌ মুগ্ধ
করতে পারবেন কিনা, আজকের আয় প্রত্যাশামত হবে কিনা। বাজিকর অবশ্য লেখকের প্রাথমিক অনুমানকে
ধুলিসাৎ করে দিয়ে বিপুল শক্তি আর উদ্যোমে নিজের কাজ করে চলছিলেন। বাঙালি দর্শকদের অসামান্য
কৌতুহল আর বিনোদন লিপ্সা। তারা পৃথিবীর প্রায় সবকিছুকেই গভীর মনোযোগ দিয়ে এবং কৌতুহলের
সাথে গ্রহণ করতে পারেন। আমাদের বাজিকরের তাই দর্শকদের মনোযোগ আকর্ষণও আর অসম্ভব থাকে
না। এছাড়া দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, সাহস আর কারিশমার জোরে তিনিও খুব ভালো করেই জানেন কি করে কি করতে হয়। তিনি মনোযোগ আকর্ষণ করে খানিকটা বিশ্রাম নেন। তিনি ধনী এলাকার এইসব ধনী মানুষদের কাছে বেশী কিছু চান না। তিনি কেবল দুই টাকা চান। এমনকি তিনি এই কাজও আর করতে চান না। আবেদন করেছিলেন বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে একটা আশ্রয় একখন্ড জমির জন্য। কিন্তু সাহায্য তিনি পাননি। নিজের শিল্পসত্তাকে খেলা দেখানোর মাধ্যমে তুলে ধরেন। লেখক তার নিজের লেখার মধ্য দিয়ে একজন শিল্পীর প্রকৃত জীবন কাহিনীকে তুলে ধরেছেন।
![]() |
TheReport24.com |
লেখকের লেখনী থেকে জানা যায়, এই রণ-পা শিল্পীর নাম নূরুল ইসলাম, যার ঠিকানা মীরপুর। যাকে লোকে 'বাঁশ পাগলা' বলে থাকে।
লেখক- অন্যমনস্ক শরৎ

Khub vlo....
ReplyDelete