রন-পা-র ভূমিকা
রণ-পা হল এক ধরনের উচ্চাঙ্গের নাচ। দুটি আলাদা শব্দ- রণ ও পা-জুড়ে তৈরি হয়েছে
রণ পা। এখানে রণ হল যুদ্ধ আর পা হল মানবদেহের সেই অঙ্গ যার উপর ভর করে মানুষ সোজা হয়ে
দাঁড়ায়, সামনে-পিছনে হাঁটাচলা করে এবং ছুটে বেড়াতে পারে। রণ-পা হল এক ধরনের কৃত্রিম
পা, যা যুদ্ধের সময় যোদ্ধারা নিজের পায়ের সঙ্গে জুড়ে উচ্চতাকে প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে
নিতে পারে। ঐতিহাসিক নিদর্শন থেকে আমরা জানতে পারি সংস্কৃতির প্রাধান্য নিয়ে আর্য এবং
অনার্যদের মধ্যে সংঘাত লেগেই থাকত। এই দুই
সংস্কৃতির মিলনের ভাবনায় প্রচন্ড বাধা আসত, যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি দেখা যেত
যুদ্ধে। এয়োদশ শতকের শেষে এই যুদ্ধ ঘিরে রণ-পা আসে।
স্বাধীনতার আগে এলাকা
ছেড়ে দ্রুত পালানোর জন্য স্বদেশিরা রণ পা ব্যবহার করতেন। শুধু পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে
গ্রেফতারি এড়াতেই নয়, এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় পালিয়ে গিয়ে লুকিয়ে থাকা
বিপ্লবীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজেও রণ পা ব্যবহারের চল ছিল। রণ পা লাগিয়ে ডাকাতি
করার অজস্র কাহিনী গ্রাম-গঞ্জে লোক মুখে প্রচলিত রয়েছে। রণ পা পরে ডাকাতরা এলে
গ্রামবাসীদের মধ্যে ভয়ের ছাপ দেখা দিত। এমনও গল্প চালু রয়েছে, পুলিশ যে ডাকাতকে
ধরতে বেরিয়েছিল সেই ডাকাত রণ পা পরে পুলিশের চোখে ধুলো দেয়। নিজের উচ্চতার সমান রণ
পা পরে সেই ডাকাত রাতে রাস্তার অন্ধকারেই দাঁড়িয়েছিল। পুলিশ তার নীচ দিয়ে চলে যায়।
রণ পা যোদ্ধাদের যুদ্ধ করার সুবিধা ও শত্রূসেনাদের সহজেই পরাস্ত করার বার্তা
চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর এই পায়ে হাঁটতে সক্ষম যুবকদের বড় জমিদাররাও নিয়োগ করা শুরু
করল। লাঠিধারী ভূমিসেনা হিসাবে এদের কাজ ছিল জমিদারির এলাকা রক্ষা করা এবং এক
জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত খবর পৌঁছে দেওয়া। এই ভাবে আস্তে আস্তে রণ-পা
ব্যবহারের কথা জনপ্রিয় হতে থাকে। দিনে দিনে এর ব্যবহার বাড়তে থাকে। পরবর্তী কালে
রণ পা লোকসংস্কৃতির একটি নৃত্য হয়ে ওঠে, যেখানে শুধুমাত্র পুরুষ
শিল্পীরাই অংশগ্রহণ করতে পারে। পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন জায়গায় একটি বিশেষ উৎসবে রণ
পা নৃত্য দেখা যায়।
nice post
ReplyDelete